Book Name:Husn e Zan Ki Barkaten
ঐ আবিদের হাতে চুমু খেতে লাগলো, তারপর বললো- হুযুর! কীসে আপনাকে ইবাদতখানা থেকে বের হতে বাধ্য করলো? ঐ আবিদ বলতে লাগলেন- আমি তোমার কারণে এখানে এসেছি। আমাকে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ পাকের দরবারে তোমার মর্যাদা আমার থেকে বেশি। সে কারণে আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছি। আমাকে বলো কী সেই আমল, যার কারণে আল্লাহ পাকের দরবারে তোমার উচ্চ মর্যাদা হাসিল হয়েছে? ঐ মুচি নিশ্চুপ রইলো, সে যেন তার আমলের ব্যাপারে জানাতে ইতস্তত বোধ করছিলো। তারপর বলতে লাগলো- আমার তো তেমন কোনো বিশেষ আমল নেই। হ্যাঁ! এতটুকু অবশ্যই চেষ্টা করি যে আমি সারা দিন হালাল রিযিক উপার্জনে ব্যস্ত থাকি এবং হারাম সম্পদ থেকে বেঁচে থাকি। তারপর আল্লাহ পাক আমাকে যা রিযিক দেন, তা থেকে অর্ধেক তার রাস্তায় দান করি এবং আর অর্ধেক আমার পরিবার পরিজনের জন্য খরচ করি। আরেকটি আমল হলো- আমি বেশি বেশি রোযা রাখি এছাড়া আমার মাঝে এমন কোনো বিষয় নেই যা আমার ফযীলতের কারণ হতে পারে। এ কথা শুনে আবিদ ঐ নেককার মুচির কাছ থেকে বিদায় নিলেন এবং আবারো ইবাদতে মশগুল হয়ে গেলেন। কিছুদিন পর তাকে আবারো স্বপ্নে বলা হলো- ঐ মুচি থেকে জিজ্ঞাসা করো, কোন জিনিসের ভয়ে তার চেহারা রঙ হলুদ হয়ে গেছে? অতএব ঐ আবিদ ফের ঐ মুচির কাছে এলেন আর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন- তোমার চেহারা হলুদ কেন? কোন জিনিসের ভয় তোমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে? মুচি জবাব দিলো- যখনই কোনো মানুষকে দেখি, তখন আমার ধারণা হয় যে, এই ব্যক্তি আমার চাইতে উত্তম। এ জান্নাতী আর আমি জাহান্নামের অধিকারী। আমি নিজেকে সবচেয়ে তুচ্ছ মনে করি, নিজেকে সবচেয়ে বড় গুনাহগার মনে করি। সব সময় অন্তরে জাহান্নামের ভয় আমাকে সন্ত্রস্ত করে রাখে। ব্যস! এ কারণেই আমার চেহারা হলুদ হয়ে গেছে। ঐ আবিদ ফের তার ইবাদতখানায় ফিরে গেলেন। হযরত সায়্যিদুনা খুলদ বিন আইয়ুব رَحْمَۃُ اللهِ عَلَیْہِ বলেন- ঐ মুচিকে ইবাদতগুজার ব্যক্তির উপর এজন্য ফযীলত দেওয়া হয়েছিলো যে, সে নিজেকে অন্যের তুলনায় তুচ্ছ মনে করে এবং নিজেকে ছাড়া সবাইকে জান্নাতী মনে করে।