Book Name:আল্লাহ পাকের গোপন ব্যবস্থাপনা
সে ইবাদত করত; তার বাইরে দাঁড়িয়ে শয়তান তাকে আওয়াজ দিল। বারসীসা বলল: যে আল্লাহ পাকের ইবাদত করতে চায় তার কোনো বন্ধুর প্রয়োজন নেই। এই উত্তর শুনে শয়তান তার ইবাদতখানার বাইরেই আসর জমাল।
এখন এই দূর্ভাগার পথভ্রষ্ট করার ধরন দেখুন! পথভ্রষ্ট শয়তান ৩ দিন ঐ ইবাদতখানার বাইরে লাগাতার ইবাদত করল; এই সময়ে না শয়ন করলো, না কিছু খেল বা পান করল। যেহেতু সে মানুষের আকৃতিতে ছিল এবং বারসীসা তাকে মানুষই মনে করছিল; অতএব সে তার ইবাদত দেখে খুব প্রভাবিত হলো। বারসীসা জিজ্ঞেস করল: আমার ২০০ বছর হয়ে গেছে ইবাদত করতে কিন্তু এখনো এই মর্যাদা পাইনি; আমার ঘুমেরও প্রয়োজন হয়, পানাহারেরও মুখাপেক্ষী (হায়! আমিও যদি তোমার মতো ইবাদত করতে পারতাম...!! তুমি এই মর্যাদা কীভাবে পেয়েছ?)।
শয়তান বলল: আসলে কথা হলো আমার দ্বারা একটি গুনাহ হয়ে গিয়েছিল; যখন আমার ঐ গুনাহর কথা মনে পড়ে তখন আমার এই অবস্থা হয়ে যায়; তখন আমার আর ক্ষুধাও লাগে না, তৃষ্ণাও লাগে না, ঘুমও আসে না। তুমি যেহেতু কখনো কোনো গুনাহ করোনি, তাই তোমার এই অবস্থা নেই। যদি তুমি আমার মতো হতে চাও তবে একটি গুনাহ করে নাও! তখন তোমার উপর খোদাভীতির আধিক্য হবে এবং তুমিও আমার মতো পানাহার ব্যতীত অনবরত ইবাদত করতে পারবে। বারসীসা বলল: আমি যে আল্লাহ পাকের এতকাল ইবাদত করেছি এখন তাঁর অবাধ্যতা কীভাবে করতে পারি? শয়তান বলল: মানুষ যখন গুনাহ করে তখন ক্ষমা প্রার্থনার দিকে ধাবিত হয় (আল্লাহ পাককে ভয় করে তাঁর ক্ষমাপ্রার্থী হয়; অতএব এই অবস্থা পাওয়ার জন্য তোমাকে গুনাহ করতেই হবে)।