Share this link via
Personality Websites!
صَلُّوْا عَلَی الْحَبِیْب صَلَّی اللهُ عَلٰی مُحَمَّد
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আমাদের উচিৎ, নিজের আখিরাতকে উত্তম বানানোর জন্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, অধিকহারে নেকী অর্জন করা এবং নিজ সন্তানদেরও নেকীর প্রতি উৎসাহিত করা, তাদেরও নেককার নামাযী বানানো, কেননা সন্তানকে নেক বানানো, তাদের ইলমে দ্বীনের অলঙ্কার দ্বারা সজ্জিত করা এবং তাদেরকে শরীয়ত অনুযায়ী মাদানী প্রশিক্ষণ করার দ্বারা পিতামাতার যেমন অনেক দ্বীনি ও দুনিয়াবী উপকারিতা ও প্রতিদান অর্জিত হয় ঠিক তেমনিভাবে একটি উপকার এটাও অর্জিত হয় যে, যখন পিতামাতা এই দুনিয়া থেকে বিধায় নেয় তখন এই নেককার সন্তানেরা তাদের উপকারের কথা ভুলে যায় না বরং নিজের শত ব্যস্ততার মাঝেও তাদের ইছালে সাওয়াবের জন্য কুরআনে পাকের তিলাওয়াত করা, গরীব ও মিসকিনদের খাওয়ানো, মসজিদ ও মাদরাসা বানানো এবং বিনা হিসাবে ক্ষমার দোয়া করাকে সৌভাগ্য মনে করে, যা কবরে তাদের পিতামাতার প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির উপায় হয়।
সাওয়াব পৌঁছানো প্রসঙ্গে শায়খে তরিকত, আমীরে আহলে সুন্নাত دَامَتْ بَرَکَاتُہُمُ الْعَالِیَہ এর লিখিত পুস্তিকা “কবরবাসীদের ২৫টি ঘটনাবলি” এর ১১ পৃষ্ঠা থেকে খুব সুন্দর একটি ঘটনা শ্রবণ করুন, যেমন
হযরত আল্লামা আলী ক্বারী رَحْمَۃُ اللهِ عَلَیْہِ বলেন: হযরত শায়খ আকবর ইবনে আরাবী رَحْمَۃُ اللهِ عَلَیْہِ এক জায়গায় দাওয়াতে গেলেন, তিনি দেখতে পেলেন যে এক যুবক খাবার আহার করছে, যার ব্যপারে এটা প্রসিদ্ধ ছিলো যে আল্লাহ পাকের দানক্রমে সে গোপন রহস্য ও কবরের অবস্থাদির ব্যাপারে সংবাদ দিয়ে থাকে, জান্নাত ও দোযখের অবস্থাদিও সে জানে। খাবার খেতে খেতে সে কাঁদতে লাগলো। কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বললো: আমার মা দোযখে জ্বলছে। হযরত শায়খ আকবর মুহিদ্দীন ইবনে আরাবী رَحْمَۃُ اللهِ عَلَیْہِ এর নিকট কালিমায়ে তায়্যিবা সত্তর হাজারবার (৭০,০০০) পড়া ছিলো, তিনি সেগুলো তার মায়ের জন্য ইছালে সাওয়াব করে পৌঁছিয়ে দিলেন। তৎক্ষণাৎ সেই যুবক হেসে উঠলো আর বললো: এখন আমার আম্মাকে জান্নাতে দেখতে পাচ্ছি।
(মিরকাতুল মাফাতিহ, ৩/২২২ পৃ:, হাদিসের পাদটিকা: ১১৪২)
صَلُّوْا عَلَی الْحَبِیْب! صَلَّی اللهُ عَلٰی مُحَمَّد
হে আশিকানে রাসূল! আপনারা শুনলেন তো সেই যুবকটি আল্লাহ পাকের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিজের মাকে দোযখে দেখলো তো হযরত ইবনে আরাবী رَحْمَۃُ اللهِ عَلَیْہِ এর পক্ষ থেকে কালিমায়ে তায়্যিবার সাওয়াব পৌছিয়ে দেয়ার বরকতে তার মা আযাব থেকে মুক্তি পেয়ে গেলো। মনে রাখবেন! যেই হাদিসে পাকে সত্তর হাজারবার (৭০,০০০) কালিমা পাঠ করার ফযিলত বলা হয়েছে তা হলো: নিশ্চয় যে ব্যক্তি সত্তর হাজার বার (৭০,০০০) لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ পাঠ করলো: আল্লাহ পাক তাকে ক্ষমা করে দিবেন আর যার জন্য এটা পাঠ করা হয়েছে তাকেও ক্ষমা করে দেয়া হবে।
(মিরকাতুল মাফাতিহ, ৩/২২২, হাদিসের পাদটিকা: ১১৪২)
সুতরাং আমাদের উচিত জীবনে কমপক্ষে একবার হলেও সত্তর হাজারবার (৭০,০০০) কালিমায়ে তায়্যিবা পাঠ করে নেয়া এবং আমাদের যেই যেই আত্মীয় ইন্তেকাল করেছে তাদের জন্য ইছালে সাওয়াব পৌঁছিয়ে দেয়া। এই সংখ্যাটি একদিনে ও একই মজলিসে পড়া জরুরী নয়
BOOK TOPIC
©Copyright 2026 by I.T. Department of Dawat-e-Islami