Share this link via
Personality Websites!
তিনি বললেন: জী ঠিক আছে! কিছুক্ষণ পর তিনি মজলিস থেকে উঠে চলে গেলেন, অতঃপর পূনরায় তাশরিফ আনলেন আর সেই চাদরটি ভাজ করে ঐ সাহাবীর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। সাহাবায়ে কেরামগণ رَضِیَ اللهُ عَنْہُمْ তাকে বললেন, তুমি কাজটা ভালো করো নাই, কেননা তুমি জানো যে, রাসূলে করীম صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم কোন ভিক্ষুককে ফিরিয়ে দেন না। ঐ সাহাবী বলতে লাগলেন: আল্লাহ পাকের শপথ! আমি শুধুমাত্র এজন্য এটা চেয়েছি যে, যেদিন আমি মারা যাবো এই চাদরটি যেনো (তাবাররুক হিসেবে) আমার কাফন হয়। হযরত সাহল বিন সা’দ رَضِیَ اللهُ عَنْہُ বলেন: সেই চাদরটি তার কাফনই হয়েছে।
(সহীহুল বুখারী, কিতাবুল আমল ফিল লিবাস, ৪/৫৪, হাদীস: ৫৮১০)
জাহিরি বেছালের পর প্রিয় নবী صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এর দানশীলতা
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা শুনলেন তো আমাদের প্রিয় নবী صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم দোজাহানের বাদশাহ, আল্লাহ পাক তাঁকে মালিক ও মুখতার বানিয়েছেন, তাঁর সমস্ত ভান্ডারের চাবিও দান করেছেন, কিন্তু তিনি নিজের কাছে কিছু অবশিষ্ট রাখতেন না, বরং সবকিছু বন্টন করে দিতেন। এমনকি বাহ্যিক হায়াতের ন্যায় জাহিরি বেছালের পরও আপন উম্মতের পেরেশান অবস্থার উপর অনুদানের বৃষ্টি বর্ষণ করেন। যদি কারো মাথায় কুমন্ত্রণা আসে যে, রাসূলে করীম صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم তো এই দুনিয়া থেকে পর্দা করেছেন তো কিভাবে ভিক্ষুকদের দান করেন? তো মনে রাখবেন! আল্লাহ পাকের সমস্ত নবীগণ আপন আপন মাযারে জীবিত রয়েছেন। আ’লা হযরত, ইমাম আহমদ রযা رَحْمَۃُ اللهِ عَلَیْہِ ইরশাদ করেন: রাসূলে আকরাম صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ও সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম عَلَیْهِمُ السَّلَام হায়াতে হাকীকী, দুনিয়াবি, রুহানী ও শারিরিকভাবে জীবিত আছেন, আপন আপন মাযারাতে তায়্যিবার মধ্যে নামায পড়েন, তাঁদেরকে রিযিক দেয়া হয়, যেখানে চান তাশরিফ নেন, যমিন ও আসমানের বাদশাহীর মধ্যে হস্তক্ষেপ করেন। রাসূলে করীম, রউফুর রহীম صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم বলেন: اَلْاَنْبِیَاءُ اَحْیَاءٌ فِیْ قُبُوْرِھِمْ یُصَلُّوْن অর্থাৎ হযরতে আম্বিয়ায়ে কেরামগণ عَلَیْهِمُ السَّلَام আপন আপন মাযারে পাকে জীবিত এবং নামায আদায় করেন। (মাজমাউয যাওয়ায়িদ, বাবু যিকরিল আম্বিয়া * ৮/৩৮৬ পৃ:, হাদীস: ১৩৮১২, ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যা, ১৪/৬৭৫) অন্য এক হাদীসে পাকে রয়েছে: اِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَی الْاَرْضِ اَنْ تَا کُلَ اَجْسَادَ الْاَنْبِیَاءِ فَنَبِیُّ اللهِ حَیٌّ یُرْزَقُ অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ পাক যমিনের উপর আম্বিয়ায়ে কেরাম عَلَیْهِمُ السَّلَام এর শরীর মুবারককে গ্রাস করা হারাম করে দিয়েছেন, আল্লাহ পাকের নবীগণ عَلَیْهِمُ السَّلَام জীবিত আর তাঁদেরকে রিযিক দেয়া হয়। (ইবনে মাজাহ, কিতাবুল জানায়িয, ২/২৯১, হাদীস: ১৬৩৭) যেমন আল্লামা ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ুতী رَحْمَۃُ اللهِ عَلَیْہِ বলেন: হযরতে আম্বিয়ায়ে কেরামদের عَلَیْهِمُ السَّلَام জন্য মাযার শরীফ থেকে বাহিরে যাওয়া ও আসমান এবং যমিনে হস্তক্ষেপ করার অনুমতি রয়েছে।
(আল হাভী লিল ফতোওয়া ২/২৬৩, ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যা, ১৪/৬৮৫-৯০)
BOOK TOPIC
©Copyright 2026 by I.T. Department of Dawat-e-Islami