Share this link via
Personality Websites!
صَلُّوْا عَلَی الْحَبِیْب! صَلَّی اللهُ عَلٰی مُحَمَّد
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! এতে কোন সন্দেহ নেই যে, অন্তরের কঠোরতা অনেক মারাত্মক একটি ব্যাধি এবং ক্ষতিকারক বিপদ। গুনাহের ব্যাধিতে আক্রান্ত করানোর মাঝে এই রোগের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। এর ভয়াবহতা প্রসঙ্গে হযরত আব্দুল্লাহ বিন মুবারক رَحْمَۃُ اللهِ عَلَیْہِ বলেন: মুমিন বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো, তার অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়া। (হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৩/৪৪) কেননা অন্তরের কঠোরতা গুনাহে বৃদ্ধি ঘটায়, অন্তরের কঠোরতা দ্বীন থেকে দূরে ঠেলে দেয়, অন্তরের কঠোরতা ইবাদত ও তিলাওয়াত আর আল্লাহ পাকের যিকিরের স্বাদ মিঠিয়ে দেয়, অন্তরের কঠোরতা আল্লাহ পাকের রহমতকে দূর করে দেয়, অন্তরের কঠোরতা দুর্ভাগ্যের আলামত, মোটকথা! এটা এমন এক রোগ, যার কারণে আরো অনেক জাহেরি ও বাতেনী রোগ জন্ম নেয়। বিভিন্ন হাদিস শরীফে এটার ব্যাপারে নিন্দা করা হয়েছে। আসুন! এ সম্পর্কে আরও দু’টি হাদিস শরীফ শ্রবণ করি:
(১) “পাষাণ হৃদয় ব্যক্তি আল্লাহ পাকের রহমত থেকে অনেক দূরে থাকে। (তিরমিযী, কিতাবুয যুহুদ, ৬২ বাবু মিনহু, ৪/১৮৪, হাদিস: ২৪১৯)
(২) “চারটি বিষয় দুর্ভাগ্যের লক্ষণ, (১) কান্না না আসা, (২) অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়া, (৩) দীর্ঘ আশা করা (৪) এবং দুনিয়ার লোভে পতিত হওয়া।” (আল জামেউস সগীর, পৃষ্ঠা: ৬২, হাদিস: ৯২১)
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! প্রতীয়মান হলো আল্লাহ পাকের রহমত থেকে দূরত্ব এবং সর্বদা দূর্ভাগ্যের একটি কারণ হলো অন্তরের কঠোরতা। আজকাল অধিকাংশ লোকদের পেরেশানী, বিপদাপদ, অর্থ সঙ্কট এবং ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতার হা-হুতাশ করতে দেখা যায়, চিন্তা করা উচিৎ যে, এসব বিপদের কারণ আমাদের অন্তরের কঠোরতা এবং এর কারণে আল্লাহ পাকের রহমত থেকে দূরত্ব তো নয়? আবার এমন তো নয় যে আমাদের অন্তরের কঠোরতা পাথরের চেয়েও বেশি কঠোর হয়ে গেছে আর আমরা সেই ব্যাপারে জানিও না? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক রোগের কিছু না কিছু আলামত থাকে, যার দ্বারা রোগ নির্ণয় করা সহজ হয়ে যায়, ঠিক তেমনি অন্তরের কঠোরতারও কিছু আলামত রয়েছে। আসুন! তা থেকে কয়েকটি লক্ষণ শ্রবণ করি।
(১) ইবাদতে অলসতা করা!
অন্তর কঠিন হওয়ার একটি আলামত এটাও যে, মানুষ নেক আমল থেকে দূরে থাকে, যদি কখনো মসজিদে যাওয়ার সামর্থ্য হয়েও যায় তবে বিনয় ও নম্রতা ছাড়া তাড়াতাড়ি এভাবে নামায পড়ে যেনো খাঁচায় বন্দী পাখি, যে তাড়াতাড়ি মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে। ঠিক এভাবে অন্যান্য ফরয ও ওয়াজিব সমূহও বোঝা মনে হতে থাকে। অন্তরের কঠোরতার এই আলামত খুবই খারাপ, কেননা কুরআনে পাকে মুনাফিকদেরও একই আলামত বর্ণনা করা হয়েছে। যেমনটি আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন:
وَ اِذَا قَامُوْۤا اِلَی الصَّلٰوۃِ قَامُوْا کُسَالٰی
(পারা ৫, সূরা নিসা, আয়াত ১৪২) কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: আর যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন মনভোলা অবস্থায়।
BOOK TOPIC
©Copyright 2026 by I.T. Department of Dawat-e-Islami