Share this link via
Personality Websites!
(মিরাতুল মাফাতীহ, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩১৪, হাদীসের ব্যাখ্যা: ২৪৫৯)
আল্লাহ পাকের নবী হযরত ঈসা عَلَیْہِ السَّلَام একবার ঝর্ণার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তিনি দেখলেন একটি বাচ্চা নদীতে গোসল করছিলো যার সাথে একীট অন্ধ (Blind) বাচ্চাও ছিলো।সে ঐ বাচ্চাকে পানিতে ডুবিয়ে ডানে বামে পালিয়ে যাচ্ছিলো আর ঐ বাচ্চা তাকে খুঁজতে চাইতো কিন্তু সফল হতো না। তার এই অবস্থা দেখে হযরত ঈসা عَلَیْہِ السَّلَام এর দয়া হলো। তিনি আল্লাহ পাকের দরবারে দোয়া করলেন- হে আল্লাহ! একেও তুমি দৃষ্টিশক্তি দান করো। যখন ঐ অন্ধ বাচ্চা চোখ খুলল আর সুস্থ বাচ্চাকে দেখলো, তখন ঐ সুস্থ বাচ্চাকে ধরে পানিতে এমনভাবে ডুবালো যে বাচ্চাটা মারা গেলো। তারপর আরেকজনকে ধরলো, তাকেও ডুবিয়ে হত্যা করলো। এই দৃশ্য দেখে হযরত ঈসা عَلَیْہِ السَّلَام কষ্ট পেলেন আর দোয়া করলেন: হে আল্লাহ! এ তো অন্ধই ভালো ছিলো। সুতরাং তার দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ছিনিয়ে নেয়া হলো। (আঁসো কা দরিয়া, ২৫২ পৃষ্ঠা)
হে আশিকানে রাসূল! যখন আল্লাহ পাক প্রত্যেককে পূর্ণতা দান করেছেন, আল্লাহ পাকের দরবার থেকে যার যাই মিলছে, তা ১০০ পার্সেন্টই মিলেছে, প্রত্যেকেই যে যে অবস্থানে আছে, ঐ অবস্থাটই তার জন্য উত্তম- যদি তাই তবে বলুন! অভিযোগ করার দরকার কী? অভিযোগ তো তখন করা হয়, যখন আমাদের সাথে অবিচার করা হয়। এখানে অবিচার তো করা হয় নি বরং প্রত্যেককে পরিপূর্ণই দান করা হয়েছে, প্রত্যেককে তার সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী উত্তম অবস্থায় রাখা হয়েছে। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হলো আমরা যেন তার উপর সন্তুষ্ট থাকি। এরপরও যে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট থাকে না, অভিযোগ করে, সে মূলত চায় যে- চোখ শ্রবণ করূক আর কান দেখুক, যা কিনা স্পষ্ট মূর্খতা। কান তো দেখার জন্য নয় শোনার জন্য, চোখ শোনার জন্য নয় দেখার জন্য, সুতরাং আল্লাহ পাক যাকে যেখানে রেখেছেন, যে অবস্থায় রেখেছেন, তার উচিত তাতে সন্তুষ্ট থাকা, কখনো মুখে অভিযোগ না করা।
BOOK TOPIC
©Copyright 2026 by I.T. Department of Dawat-e-Islami