Share this link via
Personality Websites!
মোটকথা হলো দ্বীনি ইজতিমার আয়োজন করা, ঐ ধরনের ওয়াজ নসিহত করা, লোকদেরকে দ্বীনি কথা বলা, আখিরাতের চিন্তা, আল্লাহর ভয়, কবর ও হাশর এবং অন্যান্য সংশোধন মূলক বিষয়াবলির উপর বয়ান করা, মিলেমিশে ইজতিমার আয়োজন করে আল্লাহর যিকির করা, দোয়া করা, প্রত্যেক যুগে ঈমানদ্বারদের আমল ছিলো, আর এটা হলো সর্বোত্তম ইবাদত। হাদিসে পাকে এর অনেক ফযিলত বর্ণিত হয়েছে।
নবী করিম صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم ইরশাদ করেন: কিয়ামতের দিন কিছূ লোক এমন হবে,যারা না নবী হবে, না শহীদ, কিন্তু তাদের চেহারার নুর প্রত্যক্ষকারীদের দৃষ্টি অবাক করবে, আম্বিয়ায়ে কেরাম ও শহীদগণ তাদের মর্যাদা এবং আল্লাহ পাকের নৈকট্যতা দেখে আনন্দিত হবেন। সাহাবায়ে কেরাম عَلَیْہِمُ الرِّضْوَان আরজ করলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم! এরা কারা? ইরশাদ করলেন: তারা বিভিন্ন গোত্রের (Tribes) এবং বস্তীর লোক হবে, যারা দুনিয়াতে আল্লাহ পাকের স্মরণের জন্য সমবেত হতো এবং পবিত্র কথা সমূহ এইভাবে চয়ন করতো যেভাবে খেজুর ভক্ষণকারী সর্বোত্তম খেজুর নির্বাচন করে থাকে।
(আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব, খন্ড ২য়, পৃ: ২৫২, হাদিস: ২৩৩৪)
পাশে বসা ব্যক্তিও দূর্ভাগা থাকে না
সাহাবিয়ে রাসূল হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস رَضِیَ اللهُ عَنْہُمَا বলেন: একদিন নবী করিম صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم হযরত আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা رَضِیَ اللهُ عَنْہُ এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, ঐ সময় হযরত আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা رَضِیَ اللهُ عَنْہُ সাহাবায়ে কেরাম عَلَیْہِمُ الرِّضْوَان এর মাঝে বয়ান করছিলেন। নবী করিম صَلَّی اللهُ عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এটা দেখে খুশি হয়ে ইরশাদ করলেন: যখন তোমাদের কোন দল বসে তখন তাদের সাথে তত সংখ্যক ফেরেশতাও বসে যায়। যদি তোমাদের দল سُبْحٰنَ الله বলে তখন ফেরেশতাও سُبْحٰنَ الله বলে। যদি তোমাদের দল اَلْحَمْدُ لِلّٰه বলে, তখন ফেরেশতাও اَلْحَمْدُ لِلّٰه বলে, আর যদি তোমরা اَللهُ اَكْبَرُ বলো তখন ফেরেশতাও اَللهُ اَكْبَرُ বলে। এরপর ঐ ফেরেশতা তাঁর প্রতিপালকের দরবারে হাজির হয়ে যায়, অথচ আল্লাহ পাক তাদের চেয়ে অধিক জানেন। ফেরেশতা আরজ করেন : হে আমাদের রব! তোমার বান্দা তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করেছে, তখন আমরাও তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করেছিলাম। তারা তোমার বড়ত্ব বর্ণনা করেছে, তখন আমরাও তোমার বড়ত্ব বর্ণনা করেছি। তারা তোমার প্রশংসা করেছে, তখন আমরাও তোমার প্রশংসা করেছি। এতে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন: হে ফেরেশতারা! সাক্ষী হয়ে যাও....!! আমি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলাম। ফেরেশতারা আরজ করেন, তাদের মধ্যে অমুক বান্দা অনেক বড় গুনাহগার। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন : তারা (অর্থাৎ আল্লাহ পাকের যিকিরের জন্য দ্বীনি ইজতিমার আয়োজনকারীরা) এমন সম্প্রদায় যাদের পাশে বসা ব্যক্তিও দূর্ভাগা থাকে না।
(মাজমাউল বাহরাইন, খন্ড ৪, বাবু মজলিসি যিকরিল্লাহ, হাদিস: ৪৫২০,পৃ: ১৯২)
BOOK TOPIC
©Copyright 2026 by I.T. Department of Dawat-e-Islami